সোমবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলা..
এটাই কি তাহলে আসল ঘটনা...
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ। তাঁর পদত্যাগের ঠিক এক দিন আগে, ৮ সেপ্টেম্বর, WHO-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কমিটি তাঁর নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করে। বিষয়টি পরবর্তী সময়ে সংস্থাটির নির্বাহী বোর্ডে বিবেচিত হওয়ার কথা ছিল।
সায়মা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে WHO-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে তিনি বেতনহীন প্রশাসনিক ছুটিতে ছিলেন। এর আগে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি, নথি সংক্রান্ত অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে মামলা করে। পরবর্তীতে WHO-ও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, WHO-এর তদন্তে চীন সফরের ব্যয় সংক্রান্ত প্রায় ৯০১ ডলারের আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগের কথা উঠে আসে। পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি জমি অধিগ্রহণ নিয়েও অভিযোগ ছিল। তবে সায়মা ওয়াজেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, চীন সফরের অর্থ সংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুল এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কেও তিনি WHO কর্তৃপক্ষকে যথাযথ তথ্য দিয়েছিলেন।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ WHO-এর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানান। প্রায় এক বছর বেতন-ভাতা ছাড়া থাকার কারণে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতিও অসহনীয় হয়ে পড়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে WHO-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁর বিষয়টি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিচালনা করা হয়েছে
এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের একটি অংশের মধ্যে ভিন্ন একটি রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। তাদের ধারণা, সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগের পেছনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটিকে আপাতত রাজনৈতিক মহলের একটি ধারণা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অর্থাৎ, সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগের ক্ষেত্রে WHO-এর তদন্ত, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং আঞ্চলিক কমিটির পদত্যাগের সুপারিশ—এসবের অস্তিত্ব নিশ্চিত হলেও, এর নেপথ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণিত তথ্য নেই।
তাহলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ কি শুধুই WHO-এর তদন্ত ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার ফল, নাকি এর পেছনে আরও কোনো রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে? এর উত্তর পেতে প্রয়োজন আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ।
Please wait 7 seconds to access content...
Comments
Post a Comment