সোমবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলা..
অন্ধকার গোয়ালঘরে দুই কিডনি নষ্ট স্ত্রীর সাথে স্বামীর বসবাস!
আজ আপনাদের শোনাবো চরম দারিদ্র্য আর মানবিকতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধনের গল্প।
সোহেলের নিজের বলতে এক ইঞ্চি জমিও নেই। পরের জায়গায় একটি ছোট্ট গোয়ালঘর সদৃশ অন্ধকার প্রকোষ্ঠেই চার সদস্যের গাদাগাদি করে বসবাস। কিন্তু অভাব এখানেই থেমে নেই! সোহেল নিজে শারীরিকভাবে অসুস্থ, ভারী কোনো কাজ করতে পারেন না। তার চেয়েও ভ*য়ংকর সত্য হলো, তার স্ত্রীর দুটি কিডনিই নষ্ট। একসময় পেটের দায়ে অসুস্থ শরীর নিয়েই গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করতেন তিনি। কিন্তু এখন রোগ এতটাই জেঁকে বসেছে যে, বিছানা থেকে ওঠার শক্তিটুকুও আর অবশিষ্ট নেই। আয় নেই, চিকিৎসা নেই—মাঝে মাঝেই তাদের ঘরের চুলা জ্বলে না।
অভাবের এই নিষ্ঠুর থাবা কেড়ে নিয়েছে তাদের ১৩ বয়সী বড় ছেলের শৈশব। যে বয়সে তার কাঁধে থাকার কথা ছিল স্কুলব্যাগ, সহপাঠীদের সাথে মাঠে ছুটে বেড়ানোর কথা, সেই বয়সেই পেটের তাগিদে তাকে নামতে হয়েছে জীবনযুদ্ধে। পড়াশোনা ছেড়ে এখন সে একটি দোকানের কর্মচারী। ছোট ছেলেটির বয়স মাত্র ৭, প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু পরিবারের যে অবস্থা, তাতে এই ছোট্ট শিশুটির ভবিষ্যৎও যেন এক অজানা অন্ধকারে ঢাকা!
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশীরাও দীর্ঘদিন ধরে তাদের এই মানবেতর জীবনযাপন দেখে আসছিলেন। সবারই একটাই চাওয়া ছিল—কেউ অন্তত এই পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়াক।
অবশেষে অন্ধকারের বুক চিরে যেন আশার আলো হয়ে এলেন সালথা উপজেলার ইউএনও দবির উদ্দিন। খবর পেয়ে তিনি নিজেই ছুটে যান সেই অন্ধকার গোয়ালঘরে। নিজের চোখে দেখেন পরিবারটির করুণ আর মানবেতর অবস্থা।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মানবিক রূপটা ঠিক কেমন হতে পারে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন তিনি। ইউএনও দবির উদ্দিন শুধু সান্ত্বনাই দেননি, নিয়েছেন যুগান্তকারী এক উদ্যোগ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোহেলের পরিবারের জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি, যার কাজ আজ ১৪ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পরিবারটি যেন কারও কাছে হাত না পেতে সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে, সে জন্য একটি দোকানেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে।
যে পরিবারটি এতদিন একটা মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য কেঁদেছে, প্রশাসনের এই উদ্যোগে তারা আজ নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। একটি ঘর আর একটি ছোট দোকান হয়তো তাদের সব কষ্ট রাতারাতি মুছে দেবে না, কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এটাই তো সবচেয়ে বড় সিঁড়ি!
প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সমাজ ও রাষ্ট্রের এমন ছোট ছোট উদ্যোগই পারে অসংখ্য সোহেলের জীবনে হাসি ফোটাতে।
ঘটনাটি আপনার কেমন লাগলো? এমন মানবিক কাজগুলো আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতে পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন।
#মানবিক_উদ্যোগ #ফরিদপুর #জীবনসংগ্রাম
Please wait 7 seconds to access content...
Comments
Post a Comment