সোমবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলা..

Image
  নাটোরের বেশকিছু এলাকায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, নাটোরের বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ১ নম্বর ফিডারের আওতাধীন লাইনের পার্শ্ববর্তী গাছের ডালপালা কর্তন কাজের জন্য সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট ৮ ঘণ্টা বড়াইগ্রাম উপজেলার বেশকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। এই এলাকাগুলো হলো- কালিকাপুরের আংশিক এলাকা, কালিরগুন, চরনটাবাড়িয়া, মহিষভাঙ্গা মোল্লাপাড়া, নটাবাড়িয়া, জোয়ারী, কালিকাপুর কারিগরি কলেজপাড়া, খৌদ্দকাচুটিয়া ও বৃহৎ কাচুটিয়া ও এর আশপাশের এলাকা।তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করা হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিতে সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ।এদিকে সোমবার রাজশাহীর বেশকিছু এলাকায় পর্যায়ক্রমে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ থাকবে না। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসি...

লক্ষণ থাকলে কখনো সন্তান হবে না..

 🌸 বর্তমানে মেয়েদের বাচ্চা না হওয়ার প্রধান ৩ টি কারণ 





বর্তমানে অনেক দম্পতি বাচ্চা না হওয়ার সমস্যায় ভুগছেন, এবং এর মধ্যে নারীদের শারীরিক ও হরমোনজনিত সমস্যা অন্যতম বড় কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ছয়জন দম্পতির মধ্যে একজন এ ধরনের বন্ধ্যাত্ব বা উর্বরতা সমস্যায় আক্রান্ত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই হার ক্রমেই বাড়ছে। পড়াশোনা, কর্মজীবনের চাপ, দেরিতে বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত, জীবনযাপনের পরিবর্তনসহ নানা কারণে এখন মেয়েদের গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। কিন্তু সুখবর হলো, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিরাময়যোগ্য।


হরমোনের ভারসাম্যহীনতা


মেয়েদের বাচ্চা না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। হরমোন হলো এমন রাসায়নিক পদার্থ যা শরীরের প্রজনন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন থাইরয়েড হরমোন, প্রোল্যাকটিন, এবং ওভুলেশনের সঙ্গে যুক্ত হরমোন FSH, LH ইত্যাদির অসামঞ্জস্য ডিম্বাশয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেয়। এতে মাসিক অনিয়ম হয় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায়। বিশেষ করে থাইরয়েড সমস্যা বা প্রোল্যাকটিন অতিরিক্ত থাকলে বাচ্চা ধারণে জটিলতা দেখা দেয়। এসব সমস্যা রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শে সহজেই নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS)


বর্তমানে মেয়েদের মধ্যে PCOS বা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। এটি ডিম্বাশয়ে একাধিক ছোট ছোট সিস্ট তৈরি করে, যা ডিম্বাণু পরিপক্ব হতে বাধা দেয়। এর ফলে ডিম্বস্খলন বা Ovulation অনিয়মিত হয় এবং গর্ভধারণের সুযোগ কমে যায়। PCOS-এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত ওজন, মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানো এবং ব্রণ। জীবনযাপনে পরিবর্তন ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে PCOS নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব, ফলে গর্ভধারণের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।


বয়স ও ডিম্বাশয়ের গুণমান


বয়সের প্রভাব মেয়েদের উর্বরতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ৩৫ বছরের পর থেকে মেয়েদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণুর সংখ্যা এবং গুণমান কমতে শুরু করে। এর ফলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা হ্রাস পায় এবং গর্ভপাতের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অনেক নারী ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত কারণে দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন, যা একসময় প্রজনন সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই ৩০-এর পর গর্ভধারণে বিলম্ব হলে দ্রুত গাইনী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।


ফ্যালোপিয়ান টিউবের সমস্যা


মেয়েদের গর্ভধারণের জন্য ফ্যালোপিয়ান টিউব খোলা থাকা জরুরি, কারণ এখানেই ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন হয়। কিন্তু অনেক সময় সংক্রমণ, অস্ত্রোপচার, পেলভিক ইনফ্লেমেটরি ডিজিজ (PID) বা পুরোনো টিউব ইনফেকশনের কারণে টিউব বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। এতে ডিম্বাণু জরায়ুতে পৌঁছাতে পারে না, ফলে গর্ভধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। টিউবের অবস্থান পরীক্ষা করতে “HSG” (Hysterosalpingogram) নামের একটি বিশেষ এক্স-রে পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা যায়।


জরায়ু ও এন্ডোমেট্রিওসিস সমস্যা


কিছু নারীর ক্ষেত্রে জরায়ুর অভ্যন্তরীণ ত্রুটি, ফাইব্রয়েড, বা এন্ডোমেট্রিওসিস নামক রোগের কারণে গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি হয়। এন্ডোমেট্রিওসিসে জরায়ুর অভ্যন্তরের টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে গিয়ে ফ্যালোপিয়ান টিউব বা ডিম্বাশয়কে প্রভাবিত করে। এতে ব্যথাযুক্ত মাসিক, পেলভিক পেইন এবং গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দেয়। ল্যাপারোস্কোপি বা সার্জিকাল চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিরাময়যোগ্য।


জীবনযাপন ও মানসিক চাপ


বর্তমান সময়ে মেয়েদের জীবনযাত্রায় প্রচুর মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা দেখা যায়। এসব বিষয় সরাসরি প্রজনন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। ধূমপান, মদ্যপান, ফাস্টফুড বা চিনি-সমৃদ্ধ খাবারের অতিরিক্ত ব্যবহারও গর্ভধারণে বাধা দেয়। তাই একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত ব্যায়াম প্রজননক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।


অজানা কারণ বা Unexplained Infertility


কিছু নারীর ক্ষেত্রে সব ধরনের পরীক্ষা স্বাভাবিক থাকার পরও গর্ভধারণ হয় না। একে বলা হয় “Unexplained infertility”। এর কারণ অনেক সময় মানসিক চাপ, ডিম্বাশয় ও ডিম্বাণুর গুণমানের সূক্ষ্ম সমস্যা বা শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই — চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে এখন ওভুলেশন থেরাপি, IUI বা IVF-এর মাধ্যমে গর্ভধারণের সুযোগ অনেক বেড়েছে।


কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন


যদি আপনার বয়স ৩০-এর নিচে হয় এবং এক বছরের বেশি সময় চেষ্টা করার পরও গর্ভধারণ না হয়, তাহলে একজন গাইনী বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আর যদি বয়স ৩৫ বছরের বেশি হয়, তাহলে ছয় মাস অপেক্ষা না করেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রজননক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়।



Comments

Popular posts from this blog