সোমবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলা..
অপ্রীতমের বাবা গণমাধ্যমকে জানাই তার ছেলের আইফোনের জন্য নয় তার স্ত্রীর ওপর...
কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন প্রশ্ন। শুরুতে পুলিশ জানিয়েছিল, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী তদন্তে পাঁচ হাজার টাকা পাওনা, বয়সে বড়দের সঙ্গে অপ্রতিমের সম্পর্কসহ আরও কিছু বিষয় সামনে এসেছে।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার শুরুতে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের পর গণমাধ্যমের সামনে আইফোনের বিষয়টি উল্লেখ করে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে সেই ফোন আর পাওয়া যায়নি।
তবে বর্তমানে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন এবং কয়েকজন কিশোরকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে তিনি জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—সেই ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে তদন্তকারীদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোন নয়, পাঁচ হাজার টাকা পাওনা নিয়েও বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে অপ্রতিমের বয়সের তুলনায় বড় কয়েকজনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব এবং টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনের বিষয়ও তদন্তে এসেছে।
পুলিশের আগের বক্তব্য অনুযায়ী, অপ্রতিমকে পরিকল্পনা করে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে আইফোন নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে অভিযুক্তদের একজনের বাসা থেকে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে নতুন করে ‘মায়ের ওপর ক্ষোভ বা প্রতিশোধ’ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না—এমন প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। তবে এটি এখনো তদন্তাধীন একটি সম্ভাবনা; পুলিশ বা আদালতের পক্ষ থেকে এটিকে হত্যার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
অপ্রতিমের বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তানকে হারানোর ঘটনায় পরিবারটি শোকাহত। পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অনুমান না ছড়িয়ে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা হোক এবং যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।
তদন্তে এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—অপ্রতিমকে কেন ওই নির্জন স্থানে নেওয়া হয়েছিল, হত্যার সময় কারা উপস্থিত ছিল, আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যই মূল কারণ ছিল কি না এবং অপ্রতিমের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।
Please wait 7 seconds to access content...
Comments
Post a Comment